প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল: আমি জানি, আপনারা যারা আজ সকাল থেকে সন্তানের রেজাল্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, তারা বেশ হতাশ। ভাবছেন তো, রেজাল্ট দিল না, অথচ ফেসবুকে অন্যের রেজাল্ট কীভাবে ঘুরছে? শিক্ষা বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতায় আমি আজ আপনাদের সেই পেছনের গল্পটাই জানাতে এসেছি।
আজ বৃহস্পতিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তা আর প্রকাশ করা হয়নি। অথচ বিস্ময়করভাবে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল নির্দিষ্ট কিছু লিংকে আপলোড হয়ে যায় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে!
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) সূত্র থেকে পাওয়া দুটি পৃথক আদেশ থেকে আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আসল কারণ জানতে পেরেছি। মূলত গত ৮ জুলাই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রস্তুতকৃত রেজাল্ট ওয়েবে আপলোড করার জন্য লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে।
তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফলাফল পোর্টালে আপলোড করা না হয়। কিন্তু আজ সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল সেই লিংকগুলোতে আপলোড হয়ে যায়। লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরির সময় যে ধরনের নিরাপত্তা প্রটোকল মানা উচিত ছিল, তা এখানে মানা হয়নি। ব্যাপারটি হতাশাজনক, তাই না?
এমন স্পর্শকাতর একটি ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বসে নেই। মেহতাব কায়েস নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে অধিদপ্তর।
পাশাপাশি, বিনা অনুমতিতে ফল প্রকাশের এই ঘটনা তদন্ত করতে অধিদপ্তরের পরিচালককে (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, “ভাইয়া, তাহলে আমাদের রেজাল্ট কবে দেবে?” অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে দেওয়া তথ্যমতে, আগামী রোববার এই স্থগিত হওয়া ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
চলতি বছর ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী।
মোট বৃত্তি: এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
বণ্টন: এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
সুবিধা: বৃত্তিপ্রাপ্তদের মেধার ভিত্তিতে ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ক্যাটাগরিতে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
পরিশেষে একটি কথাই বলব, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কারণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল পেতে হয়তো আপনাদের কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে একটু ধৈর্য ধরুন। রোববার নাগাদ একটি সুষ্ঠু ফলাফল আপনারা পাবেন বলে আশা করছি। নতুন কোনো আপডেট আসা মাত্রই আমি আপনাদের জানিয়ে দেব।
© ২০২৬ প্রজন্ম গঠণ (Projonmogothon.com) | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Leave a Reply